উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন ------এর উদাহরণ। (Production of high yielding crops is an example of ----- )

Updated: 1 year ago
  • ক
    ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery)
  • খ
    জীনতত্ত্ব প্রকৌশল (Genetic Engineering)
  • গ
    ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology)
  • ঘ
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)
718
ব্যাখ্যাঃ

উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন জীনতত্ত্ব প্রকৌশল (Genetic Engineering)-এর একটি প্রধান উদাহরণ।

জীনতত্ত্ব প্রকৌশল (Genetic Engineering): এটি জীববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে একটি জীবের ডিএনএ (DNA) বা আরএনএ (RNA) পরিবর্তন করে তার বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা হয়। কৃষিক্ষেত্রে, জীনতত্ত্ব প্রকৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের জিনগত পরিবর্তন ঘটানো হয় যাতে সেগুলোর ফলন বৃদ্ধি পায়, পোকামাকড় বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, পুষ্টিগুণ উন্নত হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। উচ্চ ফলনশীল ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশনগুলো প্রসঙ্গে:

        
  • ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery): এটি একটি চিকিৎসাপদ্ধতি যেখানে অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যবহার করে অস্বাভাবিক টিস্যু (যেমন টিউমার) ধ্বংস করা হয়। এর সাথে ফসল উৎপাদনের কোনো সম্পর্ক নেই।
  •     
  • ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology): এটি এমন একটি বিজ্ঞান যেখানে পদার্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (ন্যানো স্কেলে) নিয়ে গবেষণা ও কাজ করা হয়। কৃষিক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে স্মার্ট সার, কীটনাশক বা রোগ নির্ণয় যন্ত্র তৈরি করা যেতে পারে, তবে সরাসরি উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন এর মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি জীনতত্ত্ব প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে।
  •     
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence): এটি কম্পিউটার বিজ্ঞান দ্বারা মানুষের বুদ্ধিমত্তা অনুকরণ করার একটি প্রক্রিয়া। কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফসলের রোগ নির্ণয়, সেচের ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বা ফলন পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি ফসলের জিনগত পরিবর্তন করে উচ্চ ফলনশীলতা তৈরি করে না।

সুতরাং, উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন সরাসরি জীনতত্ত্ব প্রকৌশলের আওতাভুক্ত।

Satt AI
Satt AI
2 months ago

আমরা জানি, প্রতিটি জীবদেহ অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষ দিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি কোষের মাঝে থাকে কোষের মাঝে থাকে ক্রোমোজোম (Chromosome), যেগুলো তৈরি হয় ডিএনএ (DNA: Deoxyribo Nucleic Acid) ডাবল হেলিক্স দিয়ে। এই ডিএনএ'র ভেতর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ সেই প্রাণীর জীবনের বৈশিষ্ট্যকে বহন করে এবং সেগুলো জিন (Gene) হিসেবে পরিচিত। একটি ক্রোমোজোমে অসংখ্য জন থাকতে পারে, মানবদেহে 20 হাজার থেকে ৩০ হাজার জিন রয়েছে। এ ধরনের এক সেট জিনকে জিনোম বলা হয়। জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। জিনোম সিকোয়েন্স দিয়ে বোঝায় কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রম; জিনোম যত দীর্ঘ হবে, তার ধারণ করা তথ্যও তত বেশি হবে। জিনোমের উপর নির্ভর করে ঐ প্রাণী বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কীরূপ হবে ।

যেহেতু একটি জিন হচ্ছে একটি প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহুক, তাই কোনো প্রাণীর জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে সেই প্রাণীর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব। যেহেতু জিনগুলো আসলে 'ডিএনএ'র একটি অংশ, ভাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ'র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়।

গবেষণার মাধ্যমে যখন একটি জিন পরিবর্তন করে সেখানে অন্য দিন লাগানো হয় তাকে বলা হয় রিকম্বিনেট ডিএনএ বা RDNA। এসৰ RDNA সমৃদ্ধ জীবকোষকে বলা হয় Genetically Modified Organism (GMO ) । জিন জোড়া লাগানো ৰা রিকম্বিনেট ডিএনএ বা আরডিএ সত্যিকার অর্থে কী কাজে যথার্থভাবে ব্যবহার করা যায় সেটি বের করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন। বস্তুত জীবপ্রযুক্তির এই অত্যাধুনিক শাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোনো জীবের নতুন ও কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐ জীবের জিন পৃথক করে জন্য জীবের জিনের সাথে সংযুক্ত করে নতুন জিন বা ডিএনএ তৈরি করা। তাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংজ্ঞা হিসেবে আমরা বলতে পারি, জীবদেহে জিনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টির কৌশলই হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। উচ্চফলনশীল জাতের ধান ও অন্যান্য ফসল এবং প্রাণীর জিনের সাথে সাধারণ জিন জোড়া লাগিয়ে নতুন ধরনের আরো উচ্চফলনশীল বা হাইব্রিড জাতের শস্য, প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদিত হয়েছে। এটিই সহজ ভাষায়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা

বিশ্বের অনেক দেশেরই জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা, যার জন্য খাদ্য আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করে বহুগুণে খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। প্রাণীর আকার এবং মাংসবৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো এইধরনের কাজ করেও খাদ্য সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কৌশলগতভাবে পরিবর্তিত E.Coli ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট হতে মানবদেহের ইনসুলিন তৈরি, হরমোন বৃদ্ধি, এবং বামনত্ব, ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদির চিকিৎসায় জিন প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুরূপে স্থানান্তর করা সম্ভব হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তির উপর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, আখ গবেষণা ইনস্টিটিউট ইত্যাদি বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে অনেক উচ্চফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন করেছে। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্যও কয়েকগুণ বেশি হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই আমাদের দেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল ব্রি (BRRI) জাতের বহু ভ্যারাইটির ধানের বীজ উদ্ভাবন করেছে। এই ইনিষ্টিটিউটে উদ্ভাবিত পার্পল কালার (বেগুনি রঙের)-এর উফশী ধান দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী জনাব মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল গবেষক পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার আমাদের দেশের সোনালি আঁশকে বিশ্ব দরবারে হারানো ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়াও ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু করা, পোকামাকড় প্রতিরোধী করা এবং বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বহুমাত্রিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জীবজগতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি, অনৈতিক বা অযাচিতভাবে জিনের স্থানান্তর, মানবদেহে প্ৰয়োগযোগ্য এন্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস ও অ্যালার্জির উদ্ভব কিংবা ভয়াবহ ও জীববিধ্বংসী প্রজাতি বা ভাইরাস উদ্ভবের আশঙ্কা ইত্যাদি।

Related Question

View All
Updated: 3 months ago
  • ক
    Deoxyribonucleic Acid
  • খ
    Datanucleic Acid
  • গ
    Deoxy bonural Acid
  • ঘ
    Deoxyriboncuron Acid
57
  • ক

    ন্যানোটেক

  • খ

    বায়োইনফরমেটিক্স

  • গ

    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

  • ঘ

    বায়োমেট্রিক্স

60
Updated: 3 months ago
  • ক
    জ্যাক উইলিয়ামসন
  • খ
    ই. কোলি
  • গ
    পল বার্গ
  • ঘ
    স্ট্যানলি কোহেন
30
  • ক
    বায়োমেট্রিক্স
  • খ
    ন্যানোটেকনোলজি
  • গ
    বায়োইনফরমেট্রিক্স
  • ঘ
    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
338
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই